ট্রাম্পের শুল্কনীতি

বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের ভোক্তা পণ্য ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ভোক্তা পণ্য ব্যবসায় আয় হ্রাসের মুখে পড়েছে ওয়ারেন বাফেটের কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে দায়ী করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ভোক্তা পণ্য ব্যবসায় আয় হ্রাসের মুখে পড়েছে ওয়ারেন বাফেটের কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে দায়ী করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।

ফ্রুট অব দ্য লুম, জ্যাজওয়ার্স ও ব্রুকস স্পোর্টসের মতো কোম্পানি নিয়ে গঠিত বার্কশায়ারের ভোক্তা পণ্য বিভাগ। গত জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে এ বিভাগের আয় ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারে। এ পতনের পেছনে শুল্ক ছাড়াও বিক্রয় হ্রাস এবং ব্যবসা পুনর্গঠনের প্রভাব রয়েছে।

বার্কশায়ার জানিয়েছে, ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের ফলে পণ্যের ক্রয়াদেশ ও চালান বিলম্বিত হয়েছে। তবে প্রান্তিকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা গেছে জুতার ব্র্যান্ড ব্রুকস, যার আয় ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে; কারণ ইউনিট বিক্রি বেড়েছে।

মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা বোঝার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা বার্কশায়ার হ্যাথাওয়েকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বা ব্যারোমিটার হিসেবে বিবেচনা করেন। বিভিন্ন খাতে তাদের বিপুল ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রতিনিধিত্ব করে।

চলতি বছরের মে মাসে বার্ষিক সভায় ওয়ারেন বাফেট জোর দিয়ে বলেন, ‘শুল্ক কখনই অস্ত্র হওয়া উচিত নয়। ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য বিশ্বের জন্য উপকারী।’

গতকাল প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের পরিচালন আয় ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৬ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছর তা ছিল ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার।

এ সময় বার্কশায়ার তাদের মালিকানাধীন ক্র্যাফট হেইঞ্জ শেয়ারের ওপর ৩৭৬ কোটি ডলারের রাইট-ডাউন করেছে, অর্থাৎ তারা এ বিনিয়োগে গণনাযোগ্য ক্ষতি স্বীকার করেছে। কোম্পানিটি বলেছে, ২০১৫ সালের এ বিনিয়োগ প্রত্যাশামাফিক ফল দেয়নি।

বাজারমূল্যের উচ্চতা, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিবেচনায় রেখে প্রতিষ্ঠানটি এখন অনেক বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বার্কশায়ারের হাতে এখন প্রায় রেকর্ড পরিমাণ ৩৪ হাজার ৪১০ কোটি ডলার নগদ অর্থ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি টানা ১১টি প্রান্তিকে বিক্রির তুলনায় বেশি শেয়ার কেনেনি। এমনকি ২০২৪ সালের মে মাসের পর থেকে তারা নিজেদের কোনো শেয়ারও পুনঃক্রয় করেনি।

বিশ্লেষক কাইল স্যান্ডার্স জানান, ‘বাজারে নতুন কিছু ঘটবে এ আশায় বিনিয়োগকারীরা অধীর হয়ে আছেন। কিন্তু বাফেট বাজারকে এখনো অতিমূল্যায়িত মনে করছেন। তাই তিনি অপেক্ষা করছেন।’

৯৪ বছর বয়সী ওয়ারেন বাফেট ১৯৬৫ সাল থেকে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি চলতি বছরের শেষে প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে অবসর নেবেন।

আরও